রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
সিলেটের খবর

আন্তর্জাতিক রোবটিক্স প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জিতল সিলেটের ইয়াফি

ডেস্ক রিপোর্ট • ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৫ রাত • পঠিত: ২৮ বার
আন্তর্জাতিক রোবটিক্স প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জিতল সিলেটের ইয়াফি
আন্তর্জাতিক উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতায় রোবটিক্স বিভাগে স্বর্ণপদক অর্জন করেছে বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ওয়াসিক জাহেদ ইয়াফি ও তার দল ‘এসওয়াইটি ইনোভেটরস’। মালয়েশিয়ায় আয়োজিত ওয়ার্ল্ড ইনভেনশন কম্পিটিশন অ্যান্ড এক্সিবিশন (ডব্লিউআইসিই) ২০২৬-এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত একটি রোবটিক প্রকল্প উপস্থাপন করে এ সাফল্য অর্জন করে দলটি।

ইয়াফি সিলেটের জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আন্তর্জাতিক এ অর্জনে দেশের পাশাপাশি সিলেটের শিক্ষাঙ্গনেও আনন্দের উপলক্ষ তৈরি হয়েছে।

এআইচালিত রোবটিক প্রকল্পে স্বর্ণপদক
প্রতিযোগিতাটি মালয়েশিয়ার পেটালিং জায়ায় অবস্থিত সেগি ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, চার দিনব্যাপী এ আয়োজনে বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের তরুণ উদ্ভাবকেরা অংশ নেন।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ৫১৭টি দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে স্বর্ণপদক অর্জন করে ‘এসওয়াইটি ইনোভেটরস’। বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত ২৩টি দলের মধ্যে ছিল ইয়াফির দলটি।

প্রতিযোগিতার আইটি ও রোবটিক্স বিভাগে দলটি নিজেদের উদ্ভাবন হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত ‘এআই মিলিটারি রোভার’ প্রদর্শন করে। প্রকল্পটির মাধ্যমে বিচারকদের সামনে তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উদ্ভাবনী ধারণা তুলে ধরা হয়।

রোবটিক্স ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন ইয়াফির
ছোটবেলা থেকেই প্রোগ্রামিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবোটিক্সের প্রতি আগ্রহ ইয়াফির। ভবিষ্যতে দক্ষ রোবটিক্স প্রকৌশলী হয়ে উন্নত প্রযুক্তি এবং মহাকাশ গবেষণার মতো জটিল ক্ষেত্রে অবদান রাখতে চায় সে।
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সুনাম আরও বাড়ানোই তার অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছে ইয়াফি। তার এ অর্জন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আগ্রহী দেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।

ছেলের সাফল্যে গর্বিত পরিবার
ইয়াফির বাবা জাহেদ হোসেন ও মা ডালিয়া তাজিন ছেলের আন্তর্জাতিক সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, যথাযথ দিকনির্দেশনা ও সুযোগ পেলে বাংলাদেশের তরুণেরাও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ইয়াফি ও তার দলের এ অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা, অধ্যবসায় ও নিরলস পরিশ্রম।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ইয়াফি মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আসুক মিয়া এবং জুড়ী উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বদরুল ইসলাম মাস্টারের ভাতিজা।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রোবটিক্সে এ সাফল্য ইয়াফির ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিচর্চার পথ আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করছেন তার পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
সংবাদটি শেয়ার করুন:
Facebook Twitter WhatsApp