ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ২০৯ কিলোমিটার অংশ ছয় লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সিলেটের প্রবেশপথের প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়ক এখনো দুই লেনেরই রয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে মূল মহাসড়কের সক্ষমতা বাড়লেও সিলেট নগরীতে ঢোকার মুখে যানজট আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছেন পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
তাঁদের দাবি, দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার থেকে সিলেট বাস টার্মিনাল পর্যন্ত এই অংশে যানবাহনের চাপ ইতোমধ্যে এতটাই বেড়েছে যে প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে তিন থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত লাগছে। তাই ছয় লেনের মহাসড়কের পূর্ণ সুফল পেতে সিলেটের প্রবেশপথের সড়কও প্রছয় লেনের পরও যানজটের শঙ্কাদীর্ঘদিনের যাত্রীভোগান্তি কমানো এবং রাজধানীর সঙ্গে সিলেটের যোগাযোগ দ্রুত ও নিরাপদ করতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি যাতায়াতের সময়ও কমে আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
তবে ছয় লেনের মহাসড়ক দিয়ে আসা বিপুলসংখ্যক যানবাহন সিলেটের প্রবেশমুখে এসে দুই লেনের সড়কে প্রবেশ করলে সেখানে যান চলাচলে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। এতে মহাসড়কের উন্নয়ন সত্ত্বেও নগরীতে প্রবেশের সময় দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিলেট জেলা বাস-মিনিবাস, কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হাজী ময়নুল ইসলাম বলেন, এই সড়কে যানবাহনের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। ছয় লেনের মহাসড়ক চালু হলে সিলেটের প্রবেশমুখে যানবাহনের চাপ আরও বাড়তে পারে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে সড়কটির সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।
পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, শুধু মহাসড়ক প্রশস্ত করলেই হবে না; নগরীতে প্রবেশের সড়ক এবং অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থারও উন্নয়ন করতে হবে। তা না হলে দূরপাল্লার যানবাহনের চাপের সঙ্গে নগরীর যান চলাচল মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিচার লেনের আঞ্চলিক সড়কের প্রস্তাবসড়ক ও জনপথ বিভাগ জানিয়েছে, সিলেটের প্রবেশপথের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের পাশাপাশি আঞ্চলিক ২৪ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।
সিলেট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খাইরুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন জানান, আঞ্চলিক সড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে সড়ক যোগাযোগের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরিসমন্বিত পরিকল্পনার দাবি
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত হলে রাজধানী ও সিলেটের মধ্যে যোগাযোগে গতি আসবে। তবে মূল মহাসড়ক ও সিলেট নগরীতে প্রবেশের সড়কের সক্ষমতার মধ্যে সমন্বয় না থাকলে সেই সুফল পুরোপুরি পাওয়া কঠিন হতে পারে।
তাই লালাবাজার থেকে বাস টার্মিনাল পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন, নগরীর প্রবেশপথে যানবাহন ব্যবস্থাপনা এবং অভ্যন্তরীণ সড়কের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগই পারে বাড়তি যানবাহনের চাপ সামলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে। হবে।